ব্রিটিশ জুনিয়র বেইক অফ ফাইনালিস্ট আমালকে নিয়ে লন্ডন বাংলা প্রেসক্লাবের নববর্ষ উদযাপন

ইংরেজী নতুন বছর ২০২০ সালকে ব্যতিক্রমী আয়োজনে স্বাগত জানালো বিলেতের বাংলা মিডিয়ার প্রতিনিধিত্বকারী সংগঠন ল-ন বাংলা প্রেসক্লাব। গত ৩ জানুয়ারী, শুক্রবার সন্ধ্যায় ক্লাবের নিজস্ব কার্যালয়ে সাড়া জাগানো দ্যা ব্রিটিশ বেইক অফ-এর ফাইনালিস্ট বাঙালি কিশোরী আমালের নিজ হাতে বানানো কেক কেটে তা উদযাপন করা হয়। বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে ক্লাবের বিপুলসংখ্যক সদস্য উপস্থিত ছিলেন।
ল-ন বাংলা প্রেসক্লাবের সভাপতি এমদাদুল হক চৌধুরীর সভাপতিত্বে ও সেক্রেটারি মুহাম্মদ জুবায়েরের পরিচালনায় অনুষ্ঠানের শুরুতে কিশোর সেলিব্রেটি আমলাকে ফুল দিয়ে স্বাগত জানানো হয়। একই সাথে আমালের সাথে আসা তার গর্বিত পিতা-মাতার হাতে ক্লাবের স্মারক মগ তুলে দেন ক্লাবের নির্বাহী কমিটির সদস্যবৃন্দ।
আমালের তৈরী কেক কেটে নতুন বছর উদযাপনকালে উপস্থিত প্রেসক্লাব নেতৃবৃন্দ তাদের বক্তব্যে বলেন, আমাল বাংলাদেশী কমিউনিটিকে মূলধারায় প্রতিনিধিত্ব করছে। চ্যানেল ফোর-এ জনপ্রিয় বেইক অফ অনুষ্ঠানে আমালের বিরল কৃতিত্বকে তুলে ধরা হয় অনুষ্ঠানে। অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন প্রেসক্লাবের সহ-সভাপতি ব্যারিস্টার তারেক চৌধুরী ও সাবেক সেক্রেটারি মুহাম্মদ আব্দুস সাত্তার।

অনুষ্ঠানে আমলের গর্বিত মা রেহনুমা তাবাসসুম ও বাবা আবু রানা তাদের সন্তানের সাফল্যের গল্প তুলে ধরেন। আমালের এই অর্জন নতুন প্রজন্মকে তাদের সৃজনশীল কাজে উৎসাহিত করবে। তারা এ সময় আমালের জন্য কমিউনিটির সবার দোয়া ও সহযোগিতা কামনা করেন। একই সাথে তারা আমালকে নিয়ে ল-ন বাংলা প্রেসক্লাবের ব্যতিক্রমী আয়োজনে আনন্দ প্রকাশ করে ধন্যবাদ জানান।
সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন আমাল। নিজের ক্যারিয়ার, পড়ালেখা এবং সৌশ্যল মিডিয়ায় কেক ব্র্যান্ডকে বিশ্বব্যাপী তুলে ধরতে নানা পরিকল্পনার কথাও জানান আমাল।
উল্লেখ্য, ২০১৯ সালের প্রভাবশালী ব্রিটিশ মিডিয়া চ্যানেল ফোর আয়োজিত জুনিয়র বেইক অফ প্রতিযোগিতার অন্যতম ফাইনালিস্ট হন ব্রিটিশ-বাংলাদেশী আমাল।

READ MORE

লন্ডন বাংলা প্রেসক্লাবের বিজয় দিবস উদযাপন: স্বজন হারানোর কথা তুলে ধরলেন শহীদদের সন্তানেরা

যাদের আত্মত্যাগের মধ্যদিয়ে বিশ্বের মানচিত্রে স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয় ও একটি গর্বিত জাতিসত্ত্বার বির্নিমাণ সম্ভব হয়েছে জাতির সেইসব সূর্যসন্তানদের শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করলো বৃটেনের বাংলা মিডিয়া। বরাবরের মতো গতানুগতিকতার বাইরে গিয়ে এবারও ব্যতিক্রমী আয়োজনে বাংলাদেশের মহান বিজয় দিবস উদযাপন করলো বিলেতের বাংলা মিডিয়ার প্রধান ও প্রতিনিধিত্বশীল প্লাটফরম লন্ডন বাংলা প্রেসক্লাব। ভাবগাম্ভীর্যপূর্ণ অনুষ্ঠানে মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় সশস্ত্র পাক হানাদার বাহিনীর হাতে নির্মমভাবে প্রাণ হারানো শহীদ স্বজনদের করুণ কাহিনীর বিস্তারিত বিবরণ তুলে ধরেন দুই শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের গর্বিত সন্তান।

‘শহীদ পিতার গল্প” শীর্ষক বিশেষ আয়োজনে লন্ডন বাংলা প্রেসক্লাবের দুই সদস্য যথাক্রমে সাংবাদিক বাবুল হোসেন ও সাংবাদিক আকবর হোসেন তাদের বাবা, ভাই, চাচাসহ প্রিয় স্বজনদের হারানোর হৃদয়বিদারক স্মৃতিকথা বর্ণনার পাশাপাশি মুক্তিযুদ্ধকালীন পুরো এলাকার খন্ড চিত্র তোলে ধরার চেষ্টা করেন। তাদের অশ্রুসিক্ত ও আবেগঘন স্মৃতিচারণ পুরো অনুষ্ঠানকে এক অন্যরকম ভাবগাম্ভীর্যে আবিষ্ট করে রাখে। একই সাথে ক্লাবের অপর সদস্য সামসুর রহমান সুমেলের বীর মুক্তিযোদ্ধা মরহুম বাবার অবদান শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করা হয়। অনুষ্ঠানে সিলেটের বালাগঞ্জ পাকহানাদার মুক্ত করতে নেতৃত্বদানকারী বীর মুক্তিযোদ্ধা আজিজুল কামাল বিশেষ আলোচকের বক্তব্যে গেরিলাযুদ্ধসহ রণাঙ্গণে শত্রুবাহিনীর সাথে সম্মুখ সমরে মুখোমুখী হওয়ার নানা লোমহর্ষক কাহিনীর বর্ণনা দেন। তাদের সবার বক্তব্যে দেশ স্বাধীন হওয়ার প্রায় অর্ধশত বছর অতিবাহিত হওয়ার পরও প্রত্যাশিত অনেককিছুর বাস্তবায়ন না হওয়া বিশেষ করে বহুল আলোচিত প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা এবং রাজাকারদের স্বচ্ছ ও ত্রুটিমুক্ত তালিকা প্রস্তুত না করতে পারার ব্যর্থতায় ক্ষোভের প্রকাশ ঘটে। দীর্ঘ অনুষ্ঠানের শুরুতে বিশেষ আলোচক, মুক্তিযোদ্ধা আজিজুল কামাল এবং স্মৃতিচারণকারী শহীদ পরিবারের সন্তানদের ফুলেল শুভেচ্ছার মাধ্যমে বরণ করা হয়। তাদের হাতে ফুলের তোড়া তুলে দেন প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি, সেক্রেটারিসহ বর্তমান কার্যকরী কমিটির সদস্যবৃন্দ। অনুষ্ঠানে বাড়তি বাগাড়ম্বর ও বক্তাদের আধিক্য না থাকায় এই বিশেষ তিনজনের বক্তব্য উপস্থিত সবাই মনযোগ সহকারে শোনেন ও হৃদয়ঙ্গম করেন।
গত ১৭ ডিসেম্বর, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় লন্ডন বাংলা প্রেসক্লাবের নিজস্ব কার্যালয়ে বিজয় দিবসের এই বিশেষ আয়োজন ক্লাব সভাপতি মুহাম্মদ এমদাদুল হক চৌধুরীর সভাপতিত্বে ও সেক্রেটারি মুহাম্মদ জুবায়েরের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত হয়। এতে ক্লাবের সাবেক, বর্তমান নেতৃবৃন্দসহ সাধারণ সদস্যদের বিপুল উপস্থিতি ঘটে। লন্ডনের বাইরের শহর ওল্ডহাম, লিডস ও বার্মিহাম থেকেও ক্লাবের সদস্যরা এসে অনুষ্ঠানে যোগ দেন।

নিজ এলাকা হানাদারমুক্ত করায় নেতৃত্ব দিতে পেরে সৌভাগ্যবান: মুক্তিযাদ্ধা আজিজুল কামাল
অনুষ্ঠানের বিশেষ আলোচক, বালাগঞ্জ পাক-হানদার মুক্ত করায় নেতৃত্বদানকারী বীর মুক্তিযোদ্ধা আজিজুল কামাল তাঁর বক্তব্যের শুরুতে উপস্থিত সবাইকে মুক্তিযোদ্ধাদের পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, দেশের একজন সন্তান হিসেবে সেই গুরু-দায়িত্ববোধ থেকে যুদ্ধে জড়াই।
যুদ্ধদিনের কঠিন চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, যদি আর ফিরে না আসি তা ভেবে যখন কোনো অপারেশনে যেতাম তখন পুরোপুরি বিদায় নিয়েই যেতাম। এসময় তাঁর কণ্ঠ অনেকটা জড়িয়ে আসে।
বিভিন্ন গ্রুপে বিভক্ত হয়ে গেরিলা আক্রমণের বর্ণনা দিয়ে তিনি বলেন, একদিন পাকবাহিনীর অ্যাম্বুসে পড়ে গিয়ে তারা তাদের হাতে ধরা খেয়ে যান। এসময় সাথী মুক্তিযোদ্ধা মছব্বিরকে পাকবাহিনী বেদড়ক পেটায় তবে আল্লাহর দয়ায় সেদিন প্রাণে বেঁচে যান তারা। তাদেরকে একটি ঘরে আটকে রেখে হানাদার বাহিনী চলে যাওয়ার উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমরা সেখান থেকে দরজা ভেঙে কোনো রকমে আমরা বেরুতে সক্ষম হই এবং স্থানীয় একজন আওয়ামী লীগ নেতা আমাদের সেল্টার দেন।
বালাগঞ্জ হানাদার মুক্ত করার বর্ণনা দিয়ে তিনি বলেন, আমাদের সিদ্ধান্ত ছিলো ১৪ই আগস্ট পাকিস্তানের স্বাধীনতা দিবসে অপারেশন করে আমাদের এলাকাকে মুক্ত করবো। কিন্তু বিভিন্ন কারনে তখন তা ব্যর্থ হয়। তবে পরবর্তীতে ভালোভাবে সংঘবদ্ধ হয়ে ইলাশপুরে পাক-বাহিনীকে অ্যাম্বুস করে হটিয়ে দিতে সক্ষম হই। তা করার পরই বালাগঞ্জ থানার ওসিকে ডেকে এনে বলি, এক্ষুনি আত্মসমর্পন করতে হবে নইলে থানা উড়িয়ে দেবো। অর্ডার শোনার সাথে সাথে ওসি সবাইকে নিয়ে আত্মসমর্পন করতে বাধ্য হন। তাদের আত্মসমর্পনের খবর শোনার এলাকার উৎফুল্ল মানুষ মুক্তিযোদ্ধাদের একনজর দেখতে সেখানে ছুটে আসেন। আমরা থানার সম্মুখে উড়তে থাকা পাকিস্তানী পতাকা নামিয়ে জাতীয় সঙ্গীতের মাধ্যমে স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করি।

নিজেকে একজন সৌভাগ্যবান মুক্তিযোদ্ধা দাবী করে আজিজুল কামাল বলেন, অনেক সুপরিচিত ও বয়সে বড় মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে সেদিন বালাগঞ্জ হানাদার মুক্ত করার নেতৃত্ব দেওয়ার গুরু-দায়িত্ব আমার উপর অর্পিত হয়েছিলো। স্বাধীনতার পর যতটুকু অগ্রগতি হয়েছে তাতে সন্তুষ্টি প্রকাশ করে জাতির এই শ্রেষ্ঠ সন্তান বলেন, যে আশা নিয়ে যুদ্ধে গিয়েছিলাম তার অনেককিছু রাজনৈতিক মতপার্থক্যের কারনে পূরণ হয়নি। তবুও যতুটুকু হয়েছে তাতে আমি সন্তুষ্ট আমার তেমন কোনো আফসোস নেই। এক্ষেত্রে তিনি সাংবাদিক সমাজকে অগ্রণী ভূমিকা রাখার আহবান জানিয়ে বলেন, সোনার বাংলা প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন পুরনে সবার এগিয়ে আসা দরকার।

বাবার আদর বঞ্চিত হলেও একটি স্বাধীন দেশ ও মানচিত্র পাওয়ার আনন্দই এখন মনের বড় শান্তনা: আকবর হোসেন
প্রথমে শহীদ পরিবারের সন্তান আকবর হোসেন পাক হানাদার বাহিনীর হাতে শাহাদত বরণকারী তাঁর পিতার করুণ কাহিনী বর্ণনা করেন। পাওয়ার পয়েন্টের মাধ্যমে উপস্থাপন করা বর্ণনা শুধু তাঁর শহীদ পিতার স্মৃতিচারণেই সীমাবদ্ধ ছিলো না, এসময় তিনি পুরো এলাকারই একটি সচিত্র প্রতিবেদন উপস্থাপনের চেষ্টা করেন। মুক্তিযোদ্ধাদের অবদানের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে রচিত অমর গীতিকাব্য ‘এক সাগর রক্তের বিনিময়ে বাংলার স্বাধীনতা আনলে যারা আমরা তোমাদের ভুলবো না …” দিয়ে শুরু করেন তিনি। তারপর একে একে তুলে ধরেন পতাদের এলাকা জগন্নাথপুরের রাণীগঞ্জের পুরো চিত্র।
তারিখভিত্তিক পাক-হানাদার বাহিনীর নৃসংশতার চিত্র তুলে ধরে তিনি জানান, বাবা আকলু মিয়ার সাথে তাদের ছোট চাচা ও এক খালুও শহীদ হন। একই দিন তাদের এলাকার বিনোদ রায়সহ আরো অনেকে হানাদার বাহিনীর হাতে শহীদ হয়েছিলেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।
মা ফিরোজা বেগমের কাছে লেখা বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক চিঠি তুলে ধরে তিনি বলেন, আমার বয়স তখন চার বছর ছিলো তাই সেইদিনের স্মৃতি খুববেশী মনে নেই। মায়ের কাছ থেকে শোনা বাবা আকলু মিয়া শহীদ হওয়ার বর্ণনা দিয়ে তিনি বলেন, বাবা নাকি দেখতে আমার মতোই ছিলেন। আমার বাবা তখন বাজার কমিটির চেয়ারম্যান ছিলেন। প্রতিদিনের মতো গ্রামের বাড়ি থেকে তিনি রাণীগঞ্জ বাজারে গিয়েছিলেন এবং সেখানেই তিনি হানাদার বাহিনীর হাতে শহীদ হন। একইদিন তার আরেক চাচা ও খালুও শহীদ হয়েছিলেন বলে উল্লেখ করে আকবর হোসেন জানান, দেশ স্বাধীন হওয়ার পর তাদের পরিবার দুই হাজার টাকা করে রাষ্ট্রীয় ভাতা পেতো।
ছোটবেলা বাবার আদর বঞ্চিত হলেও একটি স্বাধীন দেশ, মানচিত্র ও পতাকা পাওয়ার আনন্দই এখন মনের বড় শান্তনা উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমাদের আর চাওয়া পাওয়ার কিছু নেই। তবে একটাই দাবী, যারা প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা শহীদ কিংবা গাজী তাদের সঠিক লিস্ট হউক এবং তাদের রাষ্ট্রীয় স্কীকৃতি দেয়া হউক। রাণীগঞ্জের সেতুটি যেন শহীদ-গাজীর নামে নামকরন করা হয় সেই দাবীও জানান তিনি।

অনেক প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধারা তাদের যথাযথ সম্মান ও স্বীকৃতি পাননি: বাবুল হোসেন
অশ্রুসিক্ত নয়ন ও ভারাক্রান্ত কণ্ঠে পিতা, ভাইসহ পরিবারে সদস্যের শহীদ হওয়ার করুণ কাহিনী তুলে ধরেন বাবুল হোসেন। তিনি বলেন, আমার বাবা একজন ব্যবাসায়ী হলেও রাজনীতি সচেতন ছিলেন। বাবা মাকে প্রায়ই বলতেন, এমন এক জালিমের হাতে পড়লাম যে, সালাম করলে মারে না করলেও মারে। ভাইয়েরা আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, বড় ভাই আলতাফ মুক্তিযুদ্ধের শুরুতে ট্রেনিং নিয়ে বেইল্যা পাড়া থেকে যদ্ধু শুরু করেন।
বাবার উৎসাহেই তাঁর বড় ভাই যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন জানিয়ে তিনি বলেন, যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর তাদের পরিবার ভারতে চলে যেতে বাধ্য হয়। ভারতে যাওয়ার সময় ভাইয়ের হাতে জায়নাজ, তসবিহ, ওয়াজিফা তুলে দিয়ে বাবা বলেছিলেন, সাবধানে থেকো এবং নামাজ পড়ো।
বাবা শহীদ হওয়ার দিনের ঘটনা বর্ণনা করে বলেন, বাইরে থেকে ঘরে এসে মাকে ভাত প্রস্তুত করার কথা বলে নামাজ পড়তে যাবেন এমন সময় স্থানীয় বাজার থেকে কয়েকজন পাকবাহিনীর দোসর রাজাকাররা এসে তাঁর বাবাকে বলে যে, তাড়াতাড়ি খেয়ে এসো মাঠে খেলা করবো। স্থানীয় কয়েকজন চিহ্নিত রাজাকারের নামোল্লেখ করে তিনি বলেন, বাবা নামাজে থাকতেই আমার ভাইকে মারার আওয়াজ আমাদের কানে ভেসে আসে এবং পরক্ষণেই হানাদার বাহিনী আমাদের বাড়িতে ছুটে আসে এবং আমার ভাই পাশের ডাকবাংলায় পরোটা খাচ্ছেন বলে বাবাকে তুলে নিয়ে যায়। এসময় তারা আমাদের ঘরের সবাইকে তুলে নিতে চেয়েছিলো। কিন্তু আমার মা ও নানাী তাদের নানাভাবে আকুতি-মিনতি করে প্রাণে বাঁচেন এবং আমাদের নিয়ে অন্যত্র চলে যান।
তিনি আরো বলেন, বাবা ও এক ভাই শহীদ হওয়ার পর বড় ভাইকে অনেকে মুক্তিযুদ্ধে না যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছিলেন। কিন্তু কারো কথায় কর্ণপাত না করে আমাদের বড় ভাই আলতাফ আমাদের রেখেই ছুটে যান যুদ্ধে। তিনি আগরতলা যাওয়ার পর আর ফিরেনি বলেই কান্নায় কণ্ঠ জড়ায়ে যায় বাবুল হোসেনের।
দেশ স্বাধীন হবার অনেক পর তাদের পরিবারের ফিরে আসার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, বড় ভাই বঙ্গবন্ধুকে নানা বলে ডাকতেন। আমার ভাই বঙ্গবন্ধুকে অনুরোধ করে বলেছিলেন, নানাভাই যুদ্ধাপরাধী কাউকে ছাড় দেবেন না। সাধারণ ক্ষমাপ্রাপ্তরাই পরবর্তীতে দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করবে। বাবুল হোসেন বলেন, তারাই পরবর্তীতে বঙ্গবন্ধু ও জাতীয় চারনেতাকে হত্যার জন্য দায়ী।
মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে শ্রেণীবিন্যাস করে ভিআইপিসহ নানা স্তর করার সমালোচনা করে তিনি বলেন, দেখা যায় অনেক প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধারা তাদের যথাযথ সম্মান ও স্বীকৃতি পাননি। প্রকৃতি মুক্তিযোদ্ধাদের সঠিক তালিকা প্রণয়ন ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের স্বীকৃতি আদায়ে ব্যর্থতার সমালোচনা করার পাশাপাশি তিনি সুষ্ঠু রাজাকারদের তালিকা প্রণয়নেরও দাবী জানান।
অনুষ্ঠানের সঞ্চালক, ক্লাব সেক্রেটারি মুহাম্মদ জুবায়ের শুরুতে মহান মুক্তিযুদ্ধে শাহাদত বরণকারী ও জীবিত সকল বীর মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি সবার পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন। একই সাথে তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, এধরণের অনুষ্ঠান নতুন নয়, অতীতেও ব্যতিক্রমী আয়োজনের মাধ্যমে বিজয় ও স্বাধীনতা দিবস উদযাপন করেছে লন্ডন বাংলা প্রেসক্লাব।
স্বাগত বক্তব্যে ক্লাব সভাপতি এমদাদুল হক চৌধুরী বলেন, জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান বীর মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি সম্মান প্রদর্শন এবং শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের গর্বিত সন্তানদের মুখে প্রিয় স্বজন হারানোর শোকাবহ স্মৃতিচারন শোনার আয়োজন করতে পেরে আমরা গর্বিত। তিনি সম্প্রতি প্রকাশিত বহুল আলোচিত রাজাকারদের তালিকায় অনেক স্বীকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের নাম থাকাকে চরম অপমানজনক মন্তব্য করে এই দুর্ঘটনার নিন্দা জানান।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ক্লাবের সিনিয়র সদস্য, মুক্তিযোদ্ধা আবু মুসা হাসান তাঁর সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে দুই শহীদ পরিবারের সন্তানের স্মৃতিচারণকে চমৎকার গল্প হিসেবে আখ্যায়িত করে বলেন, ঐক্যবদ্ধ প্রয়াসের মাধ্যমে দেশকে কাক্সিক্ষত লক্ষ্যে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে।
ক্লাবের সহ-সভাপতি ব্যরিস্টার তারেক চৌধুরী সমাপনী বক্তব্যে সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, মুক্তিযোদ্ধারা যে স্বপ্œ নিয়ে যুদ্ধ করেছিলেন সেই স্বপ্ন ও তাদের যথাযথ সম্মান প্রতিষ্ঠিত হউক, প্রত্যাশিত সোনার বাংলা প্রতিষ্ঠিত হউক।
উপস্থিত সবাইকে আপ্যায়ন ও মিষ্টিমুখের মাধ্যমে বিজয় দিবসের বিশেষ এই আয়োজন সমাপ্ত হয়।

READ MORE

ফেইসবুকে লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাব সভাপতিকে নিয়ে মিথ্যাচারের নিন্দা

৩ জানুয়ারীঃ গত সেপ্টেম্বর মাসে একটি প্রেস কনফারেন্স আয়োজন এবং সে সম্পর্কিত সংবাদ প্রকাশকে কেন্দ্র করে লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাব এবং ক্লাব সভাপতি জনাব মোহাম্মদ এমদাদুল হক চৌধুরী (এমাদ চৌধুরী) সম্পর্কে সম্প্রতি (২৪ ও ৩০ ডিসেম্বর ২০১৯) ফেইসবুকে মিথ্যাচার আর বানোয়াট প্রচারণা চালানোর দৃঢ় প্রতিবাদ জানিয়ে জনাব সাঈদ চৌধুরীর বিরুদ্ধে নিন্দা প্রস্তাব গ্রহণ করেছে লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাব।

৩ জানুয়ারী শুক্রবার প্রেস ক্লাবের নির্বাহী সভায় সর্বসম্মতভাবে এই নিন্দা প্রস্তাব গ্রহণের পাশাপাশি সাঈদ চৌধুরীর ফেইসবুকে দেওয়া ব্রিটেনের মর্যাদাশীল এই সংগঠনের সুনাম ক্ষুণœকারী সকল বক্তব্য প্রত্যাহারের আহবান জানিয়ে তাকে ভবিষ্যতে ক্লাবের বিরুদ্ধে এ ধরনের অপতৎপরতা থেকে বিরত থাকার আহবান জানানো হয়েছে। এছাড়া এক্সেলসিয়র সিলেট নিয়ে সংবাদ প্রচারের জন্য সিলেট প্রেস ক্লাবের নয়া সেক্রেটারি দৈনিক যুগান্তরের সাংবাদিক সিলেট প্রেসক্লাবের নবনির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক আবদুর রশিদ রেনু ও লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাবের সদস্য অনলাইন পত্রিকা শীর্ষবিন্দু সম্পাদক সুমন আহমদকেও জঘন্য ভাষায় আক্রমণ করেছেন জনাব সাঈদ চৌধুরী। লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাব তাঁর এই ন্যাক্কারজনক আচরণেরও নিন্দা জানায়। উল্লেখ্য, এক্সেলসিয়র সিলেট নামের হোটেল এন্ড রিসোর্টের অন্যতম উদ্যোক্তা সাঈদ চৌধুরী।

গত ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯ তারিখে লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক্সেলসিয়র সিলেটে বিনিয়োগের নামে প্রতারণা ও জালিয়াতির অভিযোগ তুলে ধরার সেই সংবাদ সম্মেলনের সূত্র ধরে জনাব সাঈদ চৌধুরীর লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাব এবং ক্লাব সভাপতি জনাব মোহাম্মদ এমদাদুল হক চৌধুরী সম্পর্কে সোস্যাল মিডিয়া তথা ফেইসবুকে নানা আপত্তিকর এবং অগ্রহণযোগ্য মন্তব্য করে তা ছড়িয়ে দেয়ার প্রয়াস চালান। সাঈদ চৌধুরীর এই অনাকাঙিক্ষত আচরণ ক্লাব সদস্যদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের সঞ্চার করে। সদস্যরা তাঁর এই আচরণকে ন্যাক্কারজনক আখ্যায়িত করে নিন্দা জ্ঞাপন করে এ ব্যাপারে নির্বাহী কমিটিকে ব্যবস্থা গ্রহণের আহবান জানান। নির্বাহী কমিটির সভায় সাঈদ চৌধুরীকে এসব উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বক্তব্য প্রত্যাহার এবং ক্লাবের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে দু:খ প্রকাশের আহবান জানিয়ে বলা হয়, তাঁর পদক্ষেপের ভিত্তিতে ক্লাব পরবর্তী সিদ্ধান্ত বিবেচনা করবে।

ফেইসবুকের প্রচারণায় জনাব সাঈদ দাবী করেছেন, তিনি বিচারাধীন বিষয়ে সংবাদ সম্মেলনের সুযোগ না দিতে ক্লাব সভাপতিকে অনুরোধ করেছিলেন। এছাড়া তিনি অতীতে সংবাদ সম্মেলন করতে চেয়েছিলেন কিন্তু সেই সুযোগ তাকে দেয়া হয়নি! সাঈদ চৌধুরীর এই দাবী শুধু বিভ্রান্তিকর নয় পুরোপুরি অসত্য। কারণ সংবাদ সম্মেলনের সুযোগ দিতে ক্লাব কারো সাথেই বৈষম্যমূলক আচরণ করে না। তাকে সুযোগ না দেয়ায় প্রশ্নই উঠেনা। তবে, যেহেতু কিছু নির্ধারিত দিন ও সময় ছাড়া সাংবাদিকদের উপস্থিতি কম থাকে তাই আয়োজকদের এমনসব সুবিধাজনক দিন ও সময়ের ব্যাপারে পরামর্শ দেয়া হয় যাতে সর্বাধিক সংখ্যক সাংবাদিকের উপস্থিত হতে পারেন এবং আয়োজনটা সফল হয়। জনাব সাঈদকেও একই পরামর্শ দেয়া হয়েছে মাত্র। এছাড়া প্রেস ক্লাবে যোগাযোগকারী অন্য সবার মতোই তাকেও নিজের পছন্দের দিনে সংবাদ সম্মেলন করতে চাইলে, নিজ উদ্যোগে তা আয়োজন করার পরামর্শও দেয়া হয়। প্রসঙ্গত: তিনি গত ২০১৯ সালের ২৬ জুন একটি সংবাদ সম্মেলনের আমন্ত্রণও পাঠান, যা পরে তিনি নিজেই স্থগিত করেন।

এছাড়া একটি গণতান্ত্রিক সংগঠন হিসেবে প্রেস ক্লাবে সিনিয়র নেতৃত্বসহ নির্বাহি কমিটিতে আরো ১৪ সদস্য রয়েছেন। সত্যিই যদি তাকে সুযোগ দেয়া না হয়ে থাকে তাহলে বিষয়টি তিনি নির্বাহী কমিটির অন্যদের নজরে আনতে পারতেন। তিনি কারো কাছেই তা জানাননি। অথচ একজন সাংবাদিক ও ক্লাবের সাবেক সদস্য হিশেবে এদের যেকারো সাথেই তিনি খুব সহজেই যোগাযোগ করতে পারতেন। জনাব সাঈদ লিখেছেন, এমদাদুল হক চৌধুরী এ সংক্রান্ত সংবাদ প্রকাশ এবং সমঝোতা প্রক্রিয়ায় প্রেস ক্লাবকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছেন। এটি হাস্যকর দাবী। কারণ, এমাদ চৌধুরী এ বিষয়ে সম্পৃক্ত হয়েছিলেন প্রেস ক্লাব প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার বেশ কয়েক বছর আগে। এখানে ক্লাবকে হাতিয়ার করার দরকার নেই তার। আর সাপ্তাহিক সুরমা এবং সাপ্তাহিক পত্রিকা মিলিয়ে প্রায় ২৫ বছরের সম্পাদক জীবনে তার সবচেয়ে বড় অর্জন হচ্ছে, গ্রহণযোগ্যতা এবং বিশ্বাসযোগ্যতার ক্ষেত্রে কমিউনিটিতে আলাদা অবস্থান করে নেয়া। সৎ ও নীতিবান সাংবাদিক ও ব্যক্তিত্বসম্পন্ন হওয়ার কারণেই তার এই অর্জন। আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, তাঁর মর্যাদা কোনো চাতুর্যপূর্ণ প্রচারণায় অথবা কারো কাণ্ডজ্ঞানহীন আচরণে ক্ষুণœ হবেনা।

এমাদ চৌধুরী শুধু ক্লাব সভাপতি নন, তিনি ২৫ বছর আগে প্রতিষ্ঠিত ক্লাবের একজন প্রতিষ্ঠাতা সদস্য এবং বিভিন্ন মেয়াদে ট্রেজারার এবং সেক্রেটারি হিসেবেও সফলভাবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তাকে নিয়ে সাঈদ চৌধুরীর অহেতুক, আক্রমণাত“ক এবং হাস্যকর কথাবার্তায় মনে হচ্ছে, তিনি মূলত নীতি-নৈতিকতা আর দায়িত্বশীলতার প্রশ্নে যে সঙ্কটের মুখোমুখি পড়েছেন, তা থেকে সবার দৃষ্টি সরাতে চাইছেন। সংবাদ সম্মেলনের প্রায় তিন মাস পরে এখন কেনো সাঈদ চৌধুরী এ নিয়ে সরব হলেন- এ প্রশ্ন এখন অনেকের। সভায় বলা হয়, লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাব প্রেসিডেন্ট এমদাদুল হক চৌধুরী সম্পাদিত সাপ্তাহিক পত্রিকাসহ যে কোনো সংবাদ মাধ্যমে এক্সেলসিয়র সিলেট বা অন্য যে কোনো বিষয়ে কী ধরনের সংবাদ-প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে তা স্ব স্ব মিডিয়া হাউসের নিজস্ব এখতিয়ার। এর সাথে ক্লাবের কোনো সম্পৃক্ততা নেই, থাকার কথাও নয়।

সংবাদ সম্মেলনের আয়োজনের মাধ্যমে ক্লাব শুধু কোন ব্যক্তি/প্রতিষ্ঠান/সংগঠনের প্রয়োজনীয় বা জরুরী বিষয়ে কথা বলার বা জনগণের কাছে জানাবার সুযোগটা নিশ্চিত করে। তবে সংবাদ সম্মেলনের আগে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে একটা ধারণা নেয়া হয়। একইভাবে ব্যক্তিগত পর্যায়ে ক্লাবের কোনো নেতা বা সদস্য কোনো সমঝোতা বা সামাজিক বিচার প্রক্রিয়ায় যুক্ত হলে সেটিও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির নিজস্ব বিষয়। তাই এসব নিয়ে জনাব সাঈদের দীর্ঘ রচনা সম্পর্কে কোন মন্তব্য করার প্রয়োজন আছে বলে ক্লাব মনে করে না। তবে ক্লাবের পক্ষ থেকে বলা হয়, সত্যিকারের দায়িত্বশীল বিনিয়োগে কমিউনিটিকে উৎসাহিত করার পাশাপাশি ঝুঁকিপূর্ণ বিনিয়োগে সাবধান করে দেয়ার ক্ষেত্রে লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাব শুধুমাত্র আহবানই জানাতে পারে।

অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট মিডিয়া হাউসগুলোরই। সব শেষে বলা প্রয়োজন, শুধু এক্সেলসিয়র সিলেট নয়, জনাব সাঈদ চৌধুরী ব্রিটেন থেকে বিনিয়োগে অন্যান্য যেসব প্রকল্পে সক্রিয় ছিলেন সেসব সম্পর্কে বক্তব্য দিতে চাইলেও লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাব সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে তাকে সেই সুযোগ দিতে প্রস্তুত। নির্বাহি কমিটির সভার এই পর্বে আলোচনার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে ক্লাব সভাপতি মোহাম্মদ এমদাদুল হক চৌধুরী তাঁর বক্তব্য শেষে ভাইস প্রেসিডেন্টকে বাকী আলোচনায় সভাপতিত্ব করার দায়িত্ব দিয়ে সভাস্থল ত্যাগ করেন। এরপর ভাইস প্রেসিডেন্ট ব্যারিস্টার তারেক চৌধুরীর সভাপতিত্বে আলোচনা চলে। সেক্রেটারী মুহাম্মদ জুবায়েরের পরিচালনায় এতে ট্রেজারার আ স ম মাসুম, কমিউনিক্যাশন্স সেক্রেটারী আবদুল কাইয়ুম, ট্রেনিং সেক্রেটারী ইব্রাহিম খলিল, আইটি সেক্রেটারি সালেহ আহমদ, ইভেন্ট সেক্রেটারী রেজাউল করিম মৃধা এবং নির্বাহী সদস্য যথাক্রমে আবদুল কাইয়ূম, রুপি আমিন, পলি রহমান ও শাহনাজ সুলতানা উপস্থিত ছিলেন।
সূত্র: প্রেস বিজ্ঞপ্তি

READ MORE

লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাবের আলোচনা : জার্নালিজম – এথিক্স এন্ড স্ট্যান্ডার্ড সততা এবং তথ্যের দায়িত্ব নিয়েই সাংবাদিকতা করতে হবে

লন্ডন, ১৩ নভেম্বর : সততা, নির্ভরযোগ্য তথ্য পরিবেশন এবং স্বচ্ছতা হচ্ছে সাংবাদিকতার নীতিমালার প্রধানতম বিষয়। এসবে দৃষ্টি রেখেই সাংবাদিকতা করতে হবে। সাংবাদিকদেরও অন্যান্য মানুষের মতো ভুল হবে, তবে যথার্থতার ক্ষেত্রে চেষ্টায় যেনো দুর্বলতা না থাকে। লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাবের আয়োজনে কুইনম্যারী ইউনির্ভাসিটি অব লন্ডনে অনুষ্ঠিত ক্লাবের বার্ষিক আলোচনায় প্যানেল আলোচকরা এসব কথা বলেন। কুইনম্যারীর আর্টওয়ান হলে টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলের সহযোগিতায় জার্নালিজম: এথিক্স এন্ড স্ট্যান্ডার্ড শীর্ষক এই আলোচনায় তিনজন প্যানেল স্পিকারের সকলেই বলেন, বর্তমান বিশ্ববাস্তবতায় সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে নীতিনৈতিকতা এবং নির্ভরযোগ্যতা আরো বেশী চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। এক্ষেত্রে সাংবাদিকদের নিজের বিবেকবোধকে জাগ্রত রাখা এখন জরুরী।

লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাব সেক্রেটারী মুহাম্মদ জুবায়েরের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন ক্লাব প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ এমদাদুল হক চৌধুরী। নির্ধারিত আলোচক হিসেবে বিষয়ভিত্তিক বক্তব্য উপস্থাপন করেন প্রেস ক্লাবেরই তিন সিনিয়র সদস্য বিবিসি-র সাবেক সাংবাদিক, দৈনিক এশিয়ান এইজ-এর কলামিস্ট উদয় শঙ্কর দাশ, বিবিসি বাংলার প্রডিউসার মোয়াজ্জেম হোসেন ও চ্যানেল এস-এর সিনিয়র নিউজ প্রেজেন্টার ড. জাকি রেজওয়ানা আনোয়ার। উদয় শঙ্কর দাশ বলেন, সাংবাদিকতা নিয়ে আলোচনার জন্য এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বেছে নেওয়ায় প্রেস ক্লাবকে ধন্যবাদ দিতে হয়। সাংবাদিকতায় মান এবং নীতিবোধ একেকটি মৌলিক বিষয়, যা আমাদের পেশাগত জীবনে বেশ প্রভাব রাখে। সব সাংবাদিক সৎ হবেন বা সব সাংবাদিক যথার্থ তথ্য দেবেন, এমনটি নিশ্চিত করা যায়না। তবে সাংবাদিক তথ্য পরিবেশনের ক্ষেত্রে সততা এবং নির্ভরতার বেলায় কোনো দুর্বলতা রাখেননি সেটিই বিবেচ্য বিষয়।

বিশেষ করে সাংবাদিককে সূত্রের ক্ষেত্রে যতোটুকু সম্ভব স্বচ্ছ থাকতে হবে। তাদেরকে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ হতে হবে। কোনো রাজনৈতিক বা ব্যক্তিগত স্বার্থ থাকলে সেটি আগাম পরিস্কার করতে হবে। সাংবাদিকতায় নিজের আবেগের প্রকাশ থাকা কাম্য নয় এমনটি উল্লেখ করে উদয় শঙ্কর দাশ বলেন, প্রিন্সেস ডায়েনার মৃত্যুবিষয়ক বিবিসি রিপোর্টে তাঁর কিছু আবেগী কাব্যময় বাক্য সম্পাদক বাদ দিয়ে দেন। মোয়াজ্জেম হোসেন বিবিসি সাংবাদিকতার ক্ষেত্রেও তথ্যবিভ্রাট কীভাবে সারা বিশ্বে হৈ চৈ ফেলে দেয় তার কিছু উদাহরণ তুলে ধরেন। তিনি বলেন, শুধু সততা আর নৈতিকতা নয়, সাংবাদিকতায় তথ্যের যথার্থ পরিবেশন প্রধান বিষয়। অত্যন্ত যতœ নিয়ে, দায়িত্ব নিয়েই সাংবাদিকতা করতে হবে। ড. জাকি রেজওয়ানা আনোয়ার সাংবাদিকতার পাঁচটি মৌলিক বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন। ট্রুথ এন্ড এক্যুরেসি, ইন্ডিপেনডেন্স, ফেয়ারনেস এন্ড ইমপারশিয়ালিটি এবং একাউন্টেবিলিটি ইত্যাদির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সাংবাদিকরা মালিক, সরকার বা প্রভাবশালীদের কথা বলে নিজেদের বিবেকের দায়িত্ব এড়াতে পারেন না।

সবারই মনে রাখা দরকার ঝুঁকি ও দায়িত্ববোধের কথা মনে রেখেই সাংবাদিকতায় আসতে হবে। আর নিজেদের কাছেই জবাবদিহি হতে হবে। মঙ্গলবারের অনুষ্ঠানে প্রেস ক্লাবের সাবেক দুই সভাপতি সৈয়দ নাহাস পাশা ও মোহাম্মদ বেলাল আহমদ এবং সাবেক দুই সেক্রেটারী যথাক্রমে নজরুল ইসলাম বাসন ও আবদুস সাত্তারও উপস্থিত ছিলেন। ধন্যবাদ বক্তব্য রাখেন ক্লাবের ভাইস প্রেসিডেন্ট ব্যারিস্টার তারেক চৌধুরী। প্রশ্ন ও মন্তব্য পর্বে আরো অংশ নেন, দৈনিক এশিয়ান এইজের নির্বাহী সম্পাদক সৈয়দ বদরুল হাসান, টিভি প্রেজেন্টার বুলবুল হাসান, সাংবাদিক শামসুল আলম লিটন, কলামিস্ট ইমরান চৌধুরী ও সাংবাদিক মারুফ আহমদ।

READ MORE

লন্ডন বাংলা প্রেসক্লাবে বাংলাদেশের পরিকল্পনা মন্ত্রী

লন্ডন, ১৫ জুলাই : বাংলাদেশের পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান এমপি বলেছেন, বাংলাদেশে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ও কাজের শ্লথ গতি দুর্নীতির চেয়েও ভয়াবহ। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যেখানে দেশ ও দেশের মানুষের ভাগ্যন্নোয়নে বিরামহীন কাজ করে যাচ্ছেন, সেখানে ফাইলের শ্লথ গতির কারণে তা অনেক সময় কাঙিক্ষত লক্ষ্যে পৌঁছতে সময় নিচ্ছে অনেক বেশি। গত বৃহস্পতিবার, ১১ই জুলাই পূর্ব লন্ডনের লন্ডন বাংলা প্রেসক্লাব কার্যালয়ে বাংলা সংবাদ মাধ্যমের সাংবাদিকদের সাথে এক মতবিনিময়ে এই মন্তব্য করেন তিনি। এর আগে প্রেসক্লাব কার্যালয়ে এসে পৌছালে মন্ত্রীকে স্বাগত জানান ক্লাব নেতৃবৃন্দ।
প্রেসক্লাবের সভাপতি মোহাম্মদ এমদাদুল হক চৌধুরীর সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ জুবায়েরের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত মতবিনিময়ে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন সজ্জন রাজনীতিক হিসেবে পরিচিত পরিকল্পনা মন্ত্রী এম এ মান্নান। এসময় তিনি বাংলাদেশের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের বিভিন্ন চিত্র তুলে ধরেন সাংবাদিকদের সামনে। সিলেট বিমানবন্দর থেকে সরাসরি ফ্লাইট চালু, ব্রিটেনে তৈরী হওয়া মেধাবী বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত প্রজন্মকে দেশের কাজে লাগানো, নিজ এলাকাসহ বৃহত্তর সিলেটের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডসহ অন্যান্য বিভিন্ন বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাব দেন পরিকল্পনা মন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গতিশীল নেতৃত্বের কথা তুলে ধরতে গিয়ে এসময় মন্ত্রী বলেন, ‘যত দ্রুত সম্ভব সার্বিক উন্নয়নের মাধ্যমে দেশকে কাঙিক্ষত লক্ষ্যে পৌছাতে বিরামহীন কাজ করছেন প্রধানমন্ত্রী।’ বাংলাদেশ আর আগের অবস্থানে নেই মন্তব্য করে পরিকল্পনা মন্ত্রী বলেন, ‘এক সময় দরিদ্র ও ক্ষুধার্ত দেশ হিসেবে যে পরিচয় ছিলো বাংলাদেশের, শেখ হাসিনার নেতৃত্বে তা থেকে বেরিয়ে এসেছি আমরা।’
তিনি বলেন, ‘শিক্ষা, খাদ্যে স্বয়ং সম্পূর্ণতা, সারা দেশের প্রতিটি গ্রামে বিদ্যুৎ সরবরাহ এখন বাংলাদেশে আর কল্পনা নয়, বাস্তবতা।’ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে সন্ত্রাসী তৎপরতার দিকে ইঙ্গিত করে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, ‘আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতির একটি অন্ধকার দিক নিয়ে আমাদের শঙ্কা ছিলো সবচেয়ে বেশি, সরকার এটি নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়েছে, যদিও নিয়ন্ত্রণে আনার পদ্ধতি সম্পর্কে অনেকেরই দ্বিমত বা সমালোচনা আছে। আর্টিজানের মত মানুষ জবাই করা ঘটনার পর কঠোর না হয়ে উপায় ছিলোনা সরকারের।’ তিনি বলেন, ‘আইন শৃঙ্খলার এই ক্ষেত্রে সফলতা আমরা দেখছি।’ শিশু ধর্ষণের মত ঘটনা রোধে কঠোর আইন আসছে, এমনটি জানিয়ে এম এ মান্নান বলেন, ‘কোন বিষয় যখন আদালতে চলে যায়, তখন সরকারের আর কিছু করার থাকেনা। সরকার শুধু ঘটনার সাথে জড়িতদের আটক করে আদালতে সোপর্দ এবং প্রয়োজনে কঠোর আইন প্রণয়ন করতে পারে।’

শিক্ষার উন্নয়নে সরকারের নিরলস প্রচেষ্টার কথা জানিয়ে এক প্রশ্নের উত্তরে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, ‘মাতৃভাষা শিক্ষাকে প্রাধান্য দিয়েই সরকার জাতিকে শিক্ষিত করতে চায়। এক্ষেত্রে উন্নত বিশ্বের অন্যান্য দেশের সাথে যৌথ সহযোগিতার ভিত্তিতে আধুনিক শিক্ষা কার্যক্রমের বিষয়টিও গুরুত্ব দেয়া হয়।’ এ বিষয়ে বহির্বিশ্বে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশীদের যেকোন পরামর্শ গুরুত্বের সাথে বিবেচনার আশ্বাস দেন পরিকল্পনামন্ত্রী। বলেন, ‘আমাদের শিক্ষা মন্ত্রী ড. দীপু মনি একজন আধুনিক ও করিৎকর্মা রাজনীতিক, বহির্বিশ্বের শিক্ষা ব্যবস্থা সম্পর্কে যার রয়েছে বিশেষ জ্ঞান, তিনি নিশ্চয়ই বিষয়টি নিয়ে পরিকল্পনা সাজাবেন।’
সিলেট থেকে সরাসরি বিমান ফ্লাইট আর কত দূর? এমন অপর প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান কাজ চলছে। বলেন, ‘কাজের শ্লথ গতির কারনে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের তিরস্কারও করা হয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘বিমান সিলেটে গিয়ে সরাসরি নামতে পারলে সিলেট থেকে সরাসরি উঠতে পারেনা কেন, এমনটি জানতে আমরা খোঁজ খবর নিয়েছি। আসলে সিলেট গিয়ে যখন নামে তখন জ্বালানি ফুরিয়ে যাওয়ার পথে থাকায় বিমানটি হাল্কা থাকে, এজন্য নামা সহজ হয়। কিন্তু উঠার সময় জ্বালানি ভর্তি থাকায় বিমানের ওজন থাকে বেশি। এই ওজন নিয়ে উড়তে গেলে যে রানওয়ের প্রয়োজন সেটি এখনও তৈরী হয়নি সিলেটে। তাছাড়া সিলেট থেকে জ্বালানি সংগ্রহের ব্যবস্থাও প্রয়োজন। একাজগুলো সম্পন্ন হলেই, সিলেট থেকে যুক্তরাজ্যের উদ্দেশ্যে সরাসরি উড়বে বিমান।’ তাঁর নিজ এলাকাসহ সিলেটের বিভিন্ন সড়কের বেহাল অবস্থার বিষয়েও প্রশ্নের সম্মুখীন হন পরিকল্পনা মন্ত্রী। জানান, সিলেটে সড়ক উন্নয়নে সবচেয়ে বড় সমস্যা ঠিকাদার ও কাজের লোকের অভাব। অন্য জেলা থেকে ঠিকাদার ও কাজের লোক এনে কাজ করাতে হয়। তবে কাজ চলছে, সড়কগুলোর এই অবস্থা থাকবেনা বলে সাংবাদিকদের আশ্বাস দেন মন্ত্রী।

সিলেট বিমান বন্দর সড়কে পর্যাপ্ত লাইট না থাকায় রাতের বেলা তা অন্ধকার থাকে, এমন অভিযোগও শুনতে হয় পরিকল্পনা মন্ত্রীকে। উত্তরে তিনি সিলেট সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আরিফুল হকের প্রশংসা করে বলেন, ‘আমাদের মেয়রতো খুবই করিৎকর্মা মানুষ। নিশ্চয়ই এটি তাঁর নজরে পড়েনি। বিষয়টি মেয়রের নজরে নিয়ে আসবো আমি, সবধরনের সহযোগিতাও করবো তাঁকে।’ অবকাঠামোগত উন্নয়নের কথা বলতে গিয়ে এম এ মান্নান আরো বলেন, ‘ভারতের মত দেশে প্রতি স্কয়ার মাইলে যেখানে ৪০ জন মানুষের বসবাস, সেখানে আমাদের দেশে বসবাস করে ১২শ জন। আমাদের জমির পরিমাণ খুবই সিমীত। এই সীমিত জমি অধিগ্রহণ করে নতুন সড়ক করা খুবই কঠিন। যে সড়কগুলো আছে তাঁর রক্ষনাবেক্ষণেই এই মুহূর্তে গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার।’ উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে জমি অধিগ্রহণের ক্ষেত্রে মালিকরা ন্যায্য মূল্য পাচ্ছেন না, মন্ত্রীর কাছে এমন অভিযোগ তুললে তা তিনি দৃঢ়তার সাথে অস্বীকার করেন। বলেন, ‘সরকার এক্ষেত্রে নির্ধারিত মূল্যের তিনগুণ মূল্য পরিশোধ করছে।’ এমন ঘটনা ঘটে থাকলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ করার পরামর্শ দিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘এমন ঘটনার পেছনে মধ্যস্বত্বভোগি কারো হয়তো ভূমিকা থাকতে পারে।’ মতবিনিময় সভার সমাপনী বক্তব্যে লন্ডন বাংলা প্রেসক্লাব কার্যালয়ে আসায় মন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান ক্লাব সভাপতি মোহাম্ম এমদাদুল হক চৌধুরী। তিনি এসময় বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীর পাশাপাশি ব্রিটেন-বাংলাদেশ কুটনৈতিক সম্পর্কের ৫০ বছর পূর্তি ও লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাবের রজত জয়ন্তীর আনুষ্ঠানিক উদযাপনে মন্ত্রীর সহযোগিতা কামনা করেন। অনুষ্ঠানের শেষ দিকে সাংবাদিক নজরুল ইসলাম বাসনের লেখা ‘লন্ডনে মাওলানা ভাসানী’ বইয়ের একটি কপি ও ‘দর্পণ’ ম্যাগাজিনের পক্ষে একটি ক্রেস্ট মন্ত্রীর হাতে তুলে দেন বইটির লেখক ও দর্পণ সম্পাদক।

READ MORE

লন্ডন বাংলা প্রেসক্লাবে তথ্যমন্ত্রী বাংলাদেশে সংবাদমাধ্যম অবাধ স্বাধীনতা ভোগ করছে

লন্ডন, ৮ জুলাই : বাংলাদেশে সংবাদমাধ্যম অবাধ স্বাধীনতা ভোগ করছে বলে দাবী করেছেন দেশটির তথ্যমন্ত্রী ডক্টর হাসান মাহমুদ। গত ৪ জুলাই বৃহস্পতিবার লন্ডন বাংলা প্রেসক্লাব কার্যালয়ে আয়োজিত এক প্রশ্নোত্তর অনুষ্ঠানে তথ্য মন্ত্রী আরো বলেন, ভুল সংবাদ পরিবেশনের কারণে এই বিলেতে সংবাদ মাধ্যম বন্ধ হয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশে সংবাদ মাধ্যম বন্ধের প্রমাণ নেই। মন্ত্রী বলেন, সংবাদ মাধ্যম বা ডিজিটাল মিডিয়ার স্বাধীনতা কারো জন্যে যাতে বিপজ্জনক বা বিরক্তির কারণ না হয় সেই বিষয়টিতে সরকার জোর দিচ্ছে সরকার। সংবাদ মাধ্যমের স্বাধীনতার উপর একটি সেমিনারে যোগ দিতে বর্তমানে লন্ডনে অবস্থান করছেন তথ্যমন্ত্রী ডক্টর মোহাম্মদ হাসান মাহমুদ। এ সুযোগে তাঁর সঙ্গে এই প্রশ্ন-উত্তর পর্বের আয়োজন করে লন্ডন বাংলা প্রেসক্লাব।

সংবাদ মাধ্যমের পাশাপাশি রাজনৈতিক প্রশ্নের মুখোমুখিও হন মন্ত্রী। সংসদে বিএনপির ভূমিকার প্রসঙ্গ টেনে মন্ত্রী বলেন, সংসদে দাঁড়িয়ে সংসদকে অবৈধ বললেও তাতে গণতান্ত্রিক চর্চা হচ্ছে। বাংলাদেশে দলীয় গণন্ত্রের ক্ষেত্রে আওয়ামী লীগ এগিয়ে বলেও মন্তব্য করেন তথ্যমন্ত্রী ডক্টর হাসান মাহমুদ। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন ক্লাবের ট্রেজারার আ স ম মাসুম এবং ধন্যবাদ জানিয়ে বক্তব্য রাখেন ভাইস প্রেসিডেন্ট ব্যারিস্টার তারেক চৌধুরী।

READ MORE

পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সাথে লন্ডন বাংলা প্রেসক্লাবের ‘প্রশ্নোত্তর’ অনুষ্ঠান এ সরকারের মেয়াদেই সিলেট বিমানবন্দর আন্তর্জাতিক হবে

বাংলাদেশে সবকিছু কিছুটা ধীর গতিতে চলে এই কথা অকপটে স্বীকার করে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন বলেছেন, একটির পর একটি ইস্যুর কারণে সিলেটের ওসমানী বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক করা সম্ভব হয়নি। তবে বর্তমান সরকারের মেয়াদের মধ্যেই এটি নিশ্চিত করা হবে। চালু হবে সিলেট-লন্ডন সরাসরি ফ্লাইট। রিফুয়েলিংয়ের কাজের পর এবার রানওয়ে সস্প্রসারণসহ অন্যান্য কাজের জন্য আরো তিন হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। মন্ত্রী লন্ডন বাংলা প্রেসক্লাব আয়োজিত ‘কোয়েশ্চন টাইম উইথ ফরেন মিনিস্টার’ অনুষ্ঠানে এ প্রতিশ্রুতি দেন।

এছাড়া, গত ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশের প্রশ্নবিদ্ধ জাতীয় নির্বাচন, রোহিঙ্গা সঙ্কট, জেরুজালেমে আমেরিকার দূতাবাস স্থাপনের সিদ্ধান্তে বাংলাদেশে অবস্থান, বিদেশের বাংলাদেশ মিশন থেকে নাগরিকত্বের স্মার্ট কার্ড ইস্যু করা, হাইকমিশনের সেবার মানের উন্নয়ন, বিদেশে বড় হওয়া নতুন বাংলাদেশি প্রজন্মকে বাংলাদেশের প্রতি আকৃষ্ট করতে এবং?তাদের সেবা পেতে নেওয়া উদ্যোগ, তারেক রহমানকে ফিরিয়ে নেয়া ও বিরোধী দলবিহীন রাজনীতিসহ নানা ইস্যুতে সাংবাদিকদের বেশ কিছু প্রশ্নের জবাব দেন তিনি। অনুষ্ঠানে দ্বিতীয় পর্বে বিশ্ব গণমাধ্যম স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে বিশেষ বক্তব্য উপস্থাপন করেন সিনিয়র দুই সাংবাদিক শামসুল আলম লিটন ও বুলবুল হাসান।

প্রেস ক্লাব সভাপতি মোহাম্মদ এমদাদুল হক চৌধুরীর সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ জুবায়েরের পরিচালনায় এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তৃতা করেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সাবেক স্বাস্থ্য উপদেষ্টা ডা: সৈয়দ মোদাচ্ছের আলী। অনুষ্ঠানে প্রেস ক্লাবের সাবেক ও বর্তমান নেতৃবৃন্দ, সম্পাদক ও সাংবাদিকরা মন্তব্য ও প্রশ্নোত্তর পর্বে অংশ নেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী তাঁর প্রারম্ভিক বক্তব্যে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন, দারিদ্র দূরীকরণ ও মানুষের জীবনমান নিয়ে তাঁর বক্তব্য তুলে ধরেন। অনুষ্ঠানের প্রশ্নোত্তর পর্বে মন্ত্রীর কাছে প্রশ্ন ছিলো- সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে বার বার প্রতিশ্রুতির পরও সিলেটের ওসমানী বিমানবন্দর আন্তর্জাতিক হয়নি কেনো? এজন্য আর কতদিন অপেক্ষা করতে হবে? জবাবে তিনি বলেন, বাংলাদেশে সব কিছু ধীর গতিতে চলে। প্রথম দিকে তারা বললো, রিফুয়েলিং সিস্টেম দরকার। এটা করা হলো। এখন বলে আরো বড় রানওয়ে দরকার। এসবের জন্য ৩ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। তবে কাজ শেষ হবে কবে তার দিনতারিখ নির্দিষ্ট করে বলা যাবে না।
তবে এই সরকারের মেয়াদের মধ্যেই ওসমানী বিমানবন্দর আন্তর্জাতিক করে চালু হবে সিলেট-লন্ডন সরাসরি ফ্লাইট। গত ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশের প্রশ্নবিদ্ধ নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা সম্পর্কিত সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে ভোটে অনিয়মের বিষয়টি পররাষ্ট্রমন্ত্রী অস্বীকার করেন। মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে নানা ক্ষেত্রে দুর্বলতা আছে, ঘাটতি। সবকিছু একেবারে ‘পারফেক্ট’ বলা যাবে না। এ প্রসঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও সিলেট-এক আসনের এমপি ড. মোমেন বলেন, ভোট কারচুপি হলে আমরা প্রতিদ্বন্দ্বী তো লাখের ওপর ভোট পেতেন না। আমি আমার এলাকার কথা বললাম। এছাড়া আশপাশের দেশে তো নির্বাচনে বড় ধরণের সংঘাত হয়। আমাদের তো তেমনটি হয়নি।
এ প্রসঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরো বলেন, বিরোধী দলের নির্বাচনী ব্যর্থতার বড় একটি কারণ হচ্ছে তাদের নেতৃত্বের দূর্বলতা। একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে যথার্থ ও কার্যকর বিরোধীদল দরকার বলে উল্লেখ করেন মন্ত্রী। দূতাবাস কিংবা হাইকমিশন থেকে প্রবাসীদের জাতীয় পরিচয়পত্র (স্মার্ট কার্ড) দেয়া সংক্রান্ত প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, তিনি ইতিমধ্যে বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্টদের চিঠি লিখেছেন। বিষয়টি জটিল কোনকিছু নয় মন্তব্য করে তিনি বলেন, বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশের মিশনগুলো যদি পাসপোর্ট ইস্যু করতে পারে তাহলে স্মার্ট কার্ড ইস্যু করতে আমি তো কোন সমস্যা দেখি না। তবে মন্ত্রী জানান, তাঁর চিঠির জবাব তিনি এখনো পাননি। রোহিঙ্গা সঙ্কট প্রশ্নে চীনের সহযোগিতা ছাড়া মায়নমারের সাথে সমঝোতা কঠিন হবে মন্তব্য করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মায়ানমার একটি কঠিন দেশ। তারাই এই সঙ্কট সৃষ্টি করেছে। আর তারা চীন ছাড়া কথা বলে না।
জেরুজালেমকে ইসরাইলের রাজধানী ঘোষণায় ট্রাম্পের সাথে বাংলাদেশ নেই- এ কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, আমরা ফিলিস্তিনিদের অধিকারের পক্ষে। ব্রিটেনে বসবাসরত তারেক রহমানকে বাংলাদেশে ফিরিয়ে নিতে উদ্যোগের প্রসঙ্গে প্রশ্নে জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে সাজাপ্রাপ্ত যে কোনো আসামীকে আমরা ফিরিয়ে নেয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট সরকারগুলোর সাথে দেনদরবার করছি। সেটা তারেক রহমান বা মঈন উদ্দিন যে কেউ হতে পারে। বিদেশে বড় হওয়া নতুন বাংলাদেশি প্রজন্মকে আকৃষ্ট করা প্রসঙ্গে সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, লন্ডন হাই কমিশনে কানেকটিং?রুটস নামে একটি প্রকল্প হাতে নিয়েছে। এছাড়া প্রবাসের নতুন প্রজন্মের সাথে সেতুবন্ধ রচনায় ৭৭টি হাইকমিশনকে ডাটাবেইস তৈরীর নির্দেশনা তিনি দিয়েছেন বলে জানান। তবে বাংলাদেশের দূতাবাসগুলোর কর্মীদের নিয়ে হতাশা ও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এম এ মোমেন। অনুষ্ঠানে দূতাবাসের সেবার মান নিয়ে করা প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওই মন্তব্য করেন।
মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশ দূতাবাসের কর্মকর্তাদের দায়িত্বহীন আচরণের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ওপরে কাজ এসে পড়তে পারে এমন ভয়ে দূতাবাসের কর্মীরা টেলিফোন ধরেন না। তিনি বলেন, সরকারী অফিসগুলোতে এমন অবস্থা বিরাজমান। এমন মানসিকতার পরিবর্তন কীভাবে করা যায় তা নিয়ে তিনি চিন্তিত। পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, অন্যান্য দেশের সরকারি অফিসে টেলিফোন বাজার সঙ্গে সঙ্গে কেউ না কেউ সেটি রিসিভ করেন। জিজ্ঞেস করেন, কীভাবে সাহায্য করতে পারি। তারা সরাসরি সাহায্য করতে না পারলেও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার কাছে খবরটি পৌঁছে দেন। কিন্তু আমাদের সরকারী লোকেরা পাশে টেলিফোন বাজলেও ধরেন না। তাঁরা মনে করেন, টেলিফোন ধরলে কোনো কাজ এসে পড়বে। এই মানসিকতার পরিবর্তন জরুরি বলে মন্তব্য করেন মন্ত্রী।
অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তৃতায়?বিলেতে বাংলা গণমাধ্যমের সার্বিক চিত্র তুলে ধরেন ক্লাবের সভাপতি ও সাপ্তাহিক পত্রিকা সম্পাদক মোহাম্মদ এমদাদুল হক চৌধুরী। তিনি বলেন, ব্রিটেনে বাংলাদেশি কমিউনিটির সংগঠনগুলোতে নানা বিভক্তি থাকলেও প্রেসক্লাব গত ২৫ বছর ধরে তার ঐক্য ও সম্প্রীতির ঐতিহ্য সমুন্নত রেখে চলেছে। এ বছর ক্লাবের রজতজয়ন্তী উদযাপনে তিনি বাংলাদেশ সরকার ও বিশেষ করে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সমর্থন ও সহযোগিতা কামনা করেন। অনুষ্ঠানে ‘বিশ্ব গণমাধ্যম স্বাধীনতা দিবস’ পর্বের আলোচনায় বিশিষ্ট সাংবাদিক শামসুল আলম লিটন ও বুলবুল হাসান উপস্থাপিত বিশেষ বক্তব্যে বিশ্বের বিভিন্ন দেশসহ বাংলাদেশে স্বাধীন সাংবাদিকতায় বিদ্যমান নানা প্রতিবন্ধকতার কথা উল্লেখ করা হয়। পাশ্চাত্যসহ দক্ষিণ এশিয়ায় সাংবাদিকতার বাস্তবতার চিত্র তুলে ধরার পাশাপাশি তারা বাংলাদেশে স্বাধীন সাংবাদিকতার ঝুঁকির কথাও উল্লেখ করেন। সামসুল আলম লিটন বলেন, গণতন্ত্রের জন্য গণমাধ্যম যে কাজ করে তা আসলে তার নিজের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার জন্য। কিন্তু যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র আর বাংলাদেশ সর্বত্র গণমাধ্যম ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছে। ওয়ার্? প্রেস ফ্রিডম ইনডেক্সে বাংলাদেশের অবস্থান ১৮০টি দেশের মধ্যে ১৫০ নম্বরে। বাংলাদেশ উত্তর কোরিয়া উগান্ডা আফগাস্তিান আর ইরাকের মতো দেশের সঙ্গে একই অবস্থানে রয়েছে যা দুর্ভাগ্যজনক।

বুলবুল হাসান বলেন, একটা দেশের গণমাধ্যম কতটা স্বাধীন সেটা নির্ভর করে ঐ দেশের শাসন ব্যবস্থার স্বরূপ ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর উপর; বাংলাদেশের গণমাধ্যম শাসক এলিট বা শাসকগোষ্ঠীর অনুগত প্রজার মত আচরণ করে চলেছে! প্রধানমন্ত্রী দুর্নীতির বিরুদ্ধে অনেকটা জেহাদ ঘোষণা করেছেন, কিন্তু কিছু আমলা সাংবাদিকদের প্রায় প্রতিপক্ষ বানিয়ে ফেলেছে! ভয়ে অথবা বাস্তবতার মুখে দাঁড়িয়ে কিছু সাংবাদিক আত্মমর্যাদা বিসর্জন দিয়ে ক্ষমতাসীনদের স্তুুতি করতে ব্যস্ত। তাই গণমাধ্যমকে স্বাধীনভাবে কাজ করার পরিবেশ তৈরী করে দিতে হবে। বুলবুল হাসান বাংলাদেশে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা আরো খর্ব হয়েছে- রিপোর্টার্স উইথআউট বর্ডার্স-এর এই মন্তব্য উল্লেখ করে প্রশ্ন রাখেন, আমাদের দেশের সংবিধান যেখানে এই স্বাধীনতাকে সুরক্ষা দিতে বলেছে সেখানে রাষ্ট্র কেন বার বার ব্যর্থ হচ্ছে? ‘ওয়ার্? প্রেস ফ্রিডম ডে’-এর এ বছরের আন্তর্জাতিক থিম ‘মিডিয়া ফর ডেমোক্রেসি‘ নিয়ে এই উপস্থাপনা মনোযোগ দিয়ে শুনলেও পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ ব্যাপারে কোন প্রতিত্রিুয়া ব্যক্ত করেনি।
অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথি ডা: মোদাচ্ছের আলী লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাবকে এমন আয়োজনের জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, এধরনের বিতর্কের দরকার আছে। সরকারকে যথার্থ ও গঠনমূলক প্রশ্নের জবাব দিতে প্রস্তুত থাকতে হবে। তবে বাংলাদেশের সাংবাদিকতা নিয়ে উত্থাপিত তথ্যের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করে বক্তব্য রাখেন যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশ হাইকমিশনে নিযুক্ত মিনিস্টার (প্রেস) আশিকুন নবী চৌধুরী। এইসব বিষয় যে তথ্য ও সূচকের ওপর ভিত্তি করে উপস্থাপন হয়েছে তা নিয়ে প্রশ্ন আছে দাবি করে লন্ডনে বাংলাদেশ হাইকমিশনের মিনিষ্টার (প্রেস) বলেন, তবে এর মানে এই নয় যে বাংলাদেশে সাংবাদিকতায় কোনো সমস্যা নেই। এমনটি কেউ দাবীও করবে না। তবে অনেক তথ্য যথার্থ প্রমাণ ও গবেষণা ছাড়াই উদ্বৃত হয়। সামগ্রিক উন্নতির পাশাপাশি বাংলাদেশে সাংবাদিকতাও এগিয়ে যাচ্ছে বলে তিনি দাবি করেন। এছাড়া তিনি গণমাধ্যমকর্মীদের কল্যাণে সরকারের নেয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের তথ্য তুলে ধরেন।

প্রশ্নোত্তর পর্বে অংশ নেন লন্ডন বাংলা প্রেসক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মুহিব চৌধুরী, সাবেক সভাপতি মোহাম্মদ বেলাল আহমদ ও সৈয়দ নাহাস পাশা, প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক ও সুরমার সাবেক সম্পাদক নজরুল ইসলাম বাসন, সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবদুস সাত্তার, চ্যানেল এস-এর চেয়ারম্যান আহমেদ উস সামাদ চৌধুরী জেপি, সাপ্তাহিক বাংলা পোস্ট সম্পাদক ব্যারিষ্টার তারেক চৌধুরী, সাপ্তাহিক দেশ সম্পাদক তাইসির মাহমুদ, সাংবাদিক হাসান হাফিজুর রহমান পোলক, আহাদ চৌধুরী বাবু, নিলুফা হাসান, উর্মি মাজহার ও ডঃ জাকি রেজওয়ানা আনোয়ার প্রমুখ।
অনুষ্ঠানে মন্ত্রীর পরিচিত পাঠ করেন প্রেস ক্লাবের নির্বাহী সদস্য নাজমুল হোসেন। শুরুতে ক্লাবের কমিটির নেতৃবৃন্দ ও নির্বাহী সদস্যরা অতিথিদের ফুলেল শুভেচ্ছা জানান এবং উপহার হিসেবে তাদের হাতে প্রেস ক্লাবের মনোগ্রামখচিত স্যুভেনির তুলে দেন।

READ MORE

লন্ডন বাংলা প্রেসক্লাবের ভাষাদিবসের অনুষ্ঠান ‘একুশের অহংকার’

লন্ডন বাংলা প্রেসক্লাবের ভাষাদিবসের অনুষ্ঠান ‘একুশের অহংকার’ ব্রিটেনে বিরাজমান বাংলা ভাষার সংকট নিরসনে প্রাতিষ্ঠানিক ভূমিকার পাশাপাশি দরকার পারিবারিক চর্চা ব্যবহারিক ভাষাকে সহজলভ্য করা উচিত : আবদুল গাফফার চৌধুরী

নানাভাবে হুমকির সম্মুখীন বাংলা ভাষার চর্চা, শিক্ষা ও প্রসারকে গুরুত্ব দিয়ে এবারের অমর একুশে উদযাপন করে ল-ন বাংলা প্রেসক্লাব। ‘একুশের অহংকার’ শীর্ষক মননশীল উপস্থাপনায় নির্দিষ্ট বিষয়ভিত্তিক আলোচনা, কবিতা আবৃত্তি, সঙ্গীত ও নৃত্যের সমন্বয়ে সাজানো অনুষ্ঠানের সূচনা হয় সমবেত কণ্ঠে অমর একুশের গান পরিবেশনার মাধ্যমে। ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারী/আমি কি ভুলিতে পারি’ সূচনাতে কালজয়ী সেই গান পরিবেশন করেন প্রেসক্লাবের নির্বাহী কমিটির সদস্যরা। এসময় উপস্থিত সূধী দর্শক-শ্রোতাও তাতে কণ্ঠ মেলান। অতঃপর শুরু হয় আলোচনা পর্ব। আলোচনায় অংশ নিয়ে বক্তাগণ ব্রিটেনে বিরাজমান বাংলা ভাষার সংকট নিরসনে অভিভাবক, বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত কাউন্সিলর, কমিউনিটি নেতৃবৃন্দ ও বাংলা গণমাধ্যমে কমরত সাংবাদিকদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন অমর একুশে গানের রচয়িতা, প্রবীণ সাংবাদিক-কলামিস্ট আবদুল গাফফার চৌধুরী। তিনি তাঁর বক্তব্যে ভাষা হিসেবে বাংলাকে বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয় করতে হলে ব্যবহারিক বাংলাকে সহজলভ্য করা উচিত বলে মত প্রকাশ করেন।
আবুদল গাফফার চৌধুরী তাঁর বক্তব্যের সূচনা করেন ভাষাশহীদ, সদ্য প্রয়াত বাংলা ভাষার প্রধানতম কবি আল মাহমুদ এবং ঢাকায় সাম্প্রতিক অগ্নিকান্ডে নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে। তিনি আল মাহমুদকে পঞ্চাশের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি আখ্যা দিয়ে বলেন, ঢাকায় আমরা অনেকদিন একসঙ্গে থেকে কাজ করেছি এবং মুক্তিযুদ্ধেও তাঁর অবদান ছিলো।
সাধারণ গান বাজনার অনুষ্ঠান না করে গুরুত্বপূর্ণ একটি আলোচনার আয়োজন করার জন্য তিনি ল-ন বাংলা প্রেসক্লাবকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, আজ এখানে বাংলা ভাষার সংকট সম্পর্কে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়েছে। এই আলোচনাগুলো খুবই মূল্যবান এবং এর আলোকে আমাদের ভবিষ্যত কর্মপন্থা ঠিক হওয়া দরকার বলে মন্তব্য করেন তিনি।
‘ব্রিটেনের শিক্ষা কারিকুলামে বাংলা’ শীর্ষক মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন চ্যানেল এস’র সিনিয়র সংবাদ পাঠক ও শিক্ষক সৈয়দ আফসার উদ্দিন। তিনি তাঁর প্রবন্ধে ব্রিটেনের উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোতে ঐচ্ছিক বিষয় হিসেবে পড়তে অন্যান্য বিদেশী ভাষার প্রতি বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত ছাত্র-ছাত্রীদের আগ্রহ না কমলেও বাংলার প্রতি তাদের আগ্রহ আশংকাজনকভাব হ্রাস পাওয়ার বিষয়টি তোলে ধরেন। আর এর জন্য বাংলা ভাষার শিক্ষক ও বিশ্লেষকগণ অভিভাবকদের অসচেতনতা, শ্রেণীকক্ষে বাংলা শিক্ষাদানে পর্যাপ্ত উপকরণ না থাকা এবং শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যত জীবনে অধিকতর সাফল্যের সুযোগ সৃষ্টির জন্য বাংলা না পড়ে স্প্যানিশ, ফরাসী কিংবা জার্মান নিয়ে পড়ার ইত্যাদি অমূলক ধারণা দেয়াকে দায়ী করেন তিনি। বিপন্নপ্রায় ভাষাকে ধরে রাখার উদ্যোগ হিসেবে বাঙালির সর্ববৃহৎ সমাবেশ বৈশাখী মেলাসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠানে ভাষার ব্যাপক প্রচারের কর্মসূচী গ্রহণের পরামর্শ প্রদান করে সৈয়দ আফসার। কিছু কিছু স্কুলে কীভাবে কৌশলে ও বৈষম্যমূলকভাবে বাংলার বদলে অন্যান্য ভাষা ও বিষয় চাপিয়ে দেয়া হয় সে ব্যাপারে সবাইকে সো””ার ও সচেতন থাকার আহবান জানান তিনি।

প্যানেল আলোচক হিসেবে আলোচনায় অংশ নেন সাবেক মেয়র-কাউন্সিলার গোলাম মর্তুজা এবং সাংবাদিক ও কাউন্সিলার সৈয়দা সায়মা আহমেদ। আশির দশকে টাওয়ার হ্যামলেটসে বাংলা স্কুলের সূচনা নিয়ে কথা বলেন গোলাম মর্তুজা। কোনো অর্জনের জন্য আন্দোলনের বিকল্প নেই মন্তব্য করে তিনি বলেন, আমাদের সময়ে এতো বাঙালি কাউন্সিলার ছিলেন না। বর্ণবাদের মোকাবেলাসহ চরম প্রতিকূলতার মধ্যদিয়ে আমরা বিলেতে বাংলাকে প্রতিষ্ঠার করার কাজ করেছি।
আর স্কুল ও আফটার স্কুলে বাংলা শিক্ষা এবং কাউন্সিলের ভূমিকা বিষয়ে কথা বলেন সৈয়দা সায়মা আহমেদ। ভাষার অবস্থান তুলে ধরে বলেন, ওয়েসল, স্কটল্যান্ড, ও আয়ারল্যান্ডে নির্দিষ্ট শিক্ষা কাঠামো থাকলেও ইংল্যান্ডে সেটি নেই। তিনি ভাষা শিক্ষার ক্ষেত্রে সেটাকে একটি বড় ধরনের পলিসি গ্যাপ বলে মন্তব্য করেন। বাংলাভাষা অত্যন্ত সমৃদ্ধ ভাষা উল্লেখ করে সায়মা আহমেদ বিলেতে বাংলা ভাষার প্রসারের জন্য এর প্রয়োজনীয়তা ও গুরুত্ব তুলে শুধু একটি কাউন্সিলে নয় সবকটি কাউন্সিলে তা ছড়িয়ে দেয়ার প্রতি গুরুত্বারোপ করেন।

এছাড়াও বক্তব্য রাখেন প্রেসক্লাবের সাবেক চার সভাপতি যথাক্রমে মহিব চৌধুরী, মোহাম্মদ বেলাল আহমদ, নবাব উদ্দিন ও সদ্য সাবেক সভাপতি সৈয়দ নাহাস পাশা। অন্যান্য বিশিষ্টজনদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, লন্ডস্থ বাংলাদেশ হাইকমিশনের প্রেস মিনিস্টার আশিকুন্নবী চৌধুরী, ইউকে আওয়ামী লীগের সভাপতি সুলতান মাহমুদ শরীফ ও সেক্রেটারি সৈয়দ সাজিদুর রহমান ফারুক, বিসিএ‘র সাবেক প্রেসিডেন্ট পাশা খন্দকার এমবিই ও সাবেক সেক্রেটারি এমএ মুনিম, ব্রেন্ট কাউন্সিলের সাবেক মেয়র পারভেজ আহমদ, বিমানের বিদায়ী ও সদ্য নিয়োগপ্রাপ্ত কান্ট্রি ম্যানেজার যথাক্রমে শফিকুল ইসলাম ও মো. হারুন খান এবং বৃটেন সফররত সিলেট অনলাইন প্রেসক্লাবের সভাপতি কবি মুহিত চৌধুরী।
২২ ফেব্রুয়ারী, শুক্রবার সন্ধ্যায় পূর্ব লন্ডনের ব্রাডি আর্টস সেন্টারে অনুষ্ঠিত ভাষাদিবসের অনুষ্ঠানে ক্লাবের সাধারণ সদস্য ছাড়াও সাংবাদিক-সাংস্কৃতিক রাজনীতিকসহ কমিউনিটির বিশিষ্টজন উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে সদ্য প্রয়াত বাংলা ভাষার প্রধানতম কবি আল মাহমুদের ইন্তেকালে গভীর শোক প্রকাশ করে তাঁর স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করা হয়।
লন্ডন বাংলা প্রেসক্লাবের জেনারেল সেক্রেটারি মুহাম্মদ জুবায়েরের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত আলোচনা পর্বে সবাইকে স্বাগত জানিয়ে বক্তব্য রাখেন সভাপতি মুহাম্মদ এমদাদুল হক চৌধুরী এবং শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন সহসভাপতি ব্যারিস্টার তারেক চৌধুরী।

দ্বিতীয় পর্বে প্রেসক্লাবের নির্বাহী সদস্য নাজমুল হোসাইন ও রুপি আমিনের উপস্থাপনায় শুরু হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এতে কবিতা আবৃত্তি করেন যথাক্রমে ডা. জাকি রেজোয়ানা আনোয়ার, উর্মি মাজহার, দিলু নাসের, শহীদুল ইসলাম সাগর, মুনিরা পারভীন, মিসবাহ জামাল, ইয়াসিন সুলমানা পলিন মাঝি, মোস্তফা জামান নিপুন ও আমিমুল আহসান তানিম। সঙ্গীত পরিবেশন করেন অতিথি শিল্পী ডা. শম্পা দেওয়ান এবং প্রেসক্লাবের সদস্য মোস্তফা কামাল মিলন ও ববি রায়। এছাড়াও ‘একটি বাংলাদেশ তুমি জাগ্রত জনতার’ জনপ্রিয় সেই দেশাত্মবোধক গানের সাথে নৃত্য পরিবেশিত হয়। নৃত্যে অংশ নেন মোহাম্মদ দ্বীপ ও শিশুশিল্পী নিঝুম দে। তবলা সঙ্গত করেন শুধাংশু দাস। লাল সূর্যের বুকে ভাষাশহীদদের মুরালের ভাস্কর্য স্থাপন করে আকর্ষণীয় মঞ্চ নির্মাণ করে ইভেন্টটেক। অনুষ্ঠানে স্পন্সর হিসেবে সহায়তা করে তিনটি প্রতিষ্ঠান যথাক্রমে, পাম ট্রি হল, তাজ একাউন্টেন্ট, রাণীস সুপার স্টোর ও তসলা। পুরো অনুষ্ঠানটি সরাসরি সম্প্রচার করে এলবিটিভি।

উল্লেখ্য, বৃটেনে এবছর একুশ বা ভাষাদিবস উদযাপন নানা কারণে তাৎপর্যপূর্ণ। বিশেষ করে পূর্ব ল-নের বিপুলসংখ্যক বাঙালি অধ্যুষিত টাওয়ার হ্যামলেটসে বাজেট কর্তনের অজুহাতে বাংলা স্কুল বন্ধ হওয়ার উপক্রমের চরম মুহূর্তে ভাষাশিক্ষার গুরুত্ব তোলে ধরার উদ্দেশ্যে বিষয়ভিত্তিক আলোচনাকে প্রধান্য দেয়া হয় এবারের লন্ডন বাংলা প্রেসক্লাবের একুশের অনুষ্ঠানে।

READ MORE

ফুটবল মানে উন্মাদনা স্মৃতি রোমাঞ্চন৷ফুটবলের কোন শত্রু নেই,ফুটবল এক জাগরণ এবং ভালোবাসার নাম৷বিদেশের সংস্কৃতিতে ফুটবল পরম আত্মার আত্মীয় ৷

উম্মাদনার আয়োজন ছিলো, প্রথম বারের মতন বাংলা মিডিয়ার সংবাদ কর্মীদের প্রধান সংগঠন লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাব কর্তৃক অভ্যন্তরীন ফুটবল টুর্নামেন্ট ৷
রবিবার কিছুটা খাৱাফ আবহাওয়ার মধ্যেওবিপুল সংখ্যক ক্রীড়ামোদদের অংশ গ্রহনে পূর্ব লন্ডনের মাইল এণ্ড স্ট্রেডিয়ামে দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হয় লীগ ও নক আউট পর্বের খেলা ৷ ঌটি দলের সম্বন্ধয়ে, টুর্নামেন্টে বিভিন্ন মিডিয়া হাউস একক এবং যৌথ ভাবে নিজেদের টিম গঠন করে ৷
দুপুরে প্রতিযোগীতার আনুষ্ঠানিক উদ্ধোধন করেন লন্ডনবাংলা প্রেস ক্লাব প্রেসিডেন্ট সৈয়দ নাহাস পাশা ৷
এ সময় তিনি প্রথমবারের মতন এই আয়োজনের জন্য লন্ডন টাইগার্স সহ প্রতিটি সদস্যদের ধন্যবাদ জানিয়ে এর ধারাবাহিকতা থাকবে বলে ঘোষণা দেন ৷
উদ্ধোধনী অনুষ্ঠানে ক্লাবের সাবেক প্রেসিডেন্ট মুহিব চৌধুরী, সাবেক সাধারন সম্পাদক মোহাম্মাদ আব্দুস সাত্তার সাধারন সম্পাদক মোহাম্মদ জুবায়ের ট্রেজারার আস ম মাসুম লন্ডন ট্ৰাইগার্সের মিসবাহ আহমদ টুর্নামেন্ট পরিচালনা সাব কমিটির মোহাম্মদ সোবহান সালেহ আহমদ উপস্থিত ছিলেন ৷বিকেলে অনুষ্ঠিত হয় শীর্ষ দুটি দলের মধ্যে ফাইনাল ৷এতে অংশ নেয় টুর্নামেন্টের অন্যতম ফেবারিটর চ্যানেল এস টেলিভিশন টিম এবং ওয়ান বাংলা ফ্রেন্ডস ইউনাইডেট ৷
চ্যানেল এস ও ওয়ানবাংলা ফ্রেন্ডস ইউনাইটেড এর মধ্যে তীব্র প্রতিদ্বন্ধিতাপূর্ণ ফাইনাল খেলা নিধারিত সময়ে ১-১ গোলে ড্র হলে ট্রাইবেকারে গড়ায় খেলা।
ট্রাইবেকারে অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হয়ে লন্ডন বাংলা প্রেসক্লাব আয়োজিত প্রথম ফুটবল টুর্নামেন্টের চ্যাম্পিয়ন ট্রফি জয় করে অনলাইন সংবাদপত্র ওয়ানবাংলানিউজ এর ফ্রেন্ডস নিয়ে গড়া ওয়ানবাংলা ফ্রেন্ডস ইউনাইটেড।
খেলায় চাম্পিয়ান দল প্রাইজ মানি ৫০০ শত টাকা ও ট্রপি ও বিজিত দল ১৫০ পাউন্ড প্রদান করা হয়৷

টুর্নামেন্টের সব গুলো দলের অংশ গ্রহন কারীদের মেডেল প্রদান করা হয় ৷
চ্যাম্পিয়ান ওয়ান বাংলা টিম:ম্যানেজার সাংবাদিক মোস্তাক আলী বাবুল, অধিনায়ক ব্রিটবাংলা’র নির্বাহী সম্পাদক আহাদ চৌধুরীবাবু, গোলকিপার,ওয়ানবাংলানিউজ এর সম্পাদক জাকির হোসেন কয়েছ, অন্যান্য খেলোয়াড়দের মধ্যে ছিলেন এনটিভি চীফ রিপোর্টার আকরাম হোসেন, ইক্বরা বাংলা টিভির সিনিয়র সাংবাদিক সুবাশ দাস, এনটিভির কয়েছ আহমদ রোহেল, ওয়ানবাংলানিউজের প্রধান সম্পাদক মোহাম্মদ ছোবহান, আব্দুল বাছিত রফি, এখলাছুর রহমান পাক্কু।

রানার্স আপ চ্যানেল এস : কামাল মেহেদী( ম্যানেজার)মোহাম্মদ জুবায়ের,ইব্রাহিম খলিল,(অধিনায়ক) ওয়ালিদ বীন খালেদ, সাগর,বাহার উদ্দিন,রিয়াদ আহাদ, মোহাম্মাদ তাজ, হালিমু জামান ইভান ৷

ওয়ান বাংলার স্পন্সর বিবিসিআই ও চ্যানেল এসের পার্পল আই ট্ৰেকন লজি ৷

খেলা পরিচালনা করেন লন্ডন ট্রাইগার্স এর রেফারী ৷
চ্যানেল এস

জনমত

সুরমা

বাংলা পোষ্ট

সোনার বাংলা

আবাহনী

মিড ল্যান্ড বাংলা মিডিয়া

ইউকে বিডি টাইমস

READ MORE
  • 1
  • 2