লন্ডন, ১৩ নভেম্বর : সততা, নির্ভরযোগ্য তথ্য পরিবেশন এবং স্বচ্ছতা হচ্ছে সাংবাদিকতার নীতিমালার প্রধানতম বিষয়। এসবে দৃষ্টি রেখেই সাংবাদিকতা করতে হবে। সাংবাদিকদেরও অন্যান্য মানুষের মতো ভুল হবে, তবে যথার্থতার ক্ষেত্রে চেষ্টায় যেনো দুর্বলতা না থাকে। লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাবের আয়োজনে কুইনম্যারী ইউনির্ভাসিটি অব লন্ডনে অনুষ্ঠিত ক্লাবের বার্ষিক আলোচনায় প্যানেল আলোচকরা এসব কথা বলেন। কুইনম্যারীর আর্টওয়ান হলে টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলের সহযোগিতায় জার্নালিজম: এথিক্স এন্ড স্ট্যান্ডার্ড শীর্ষক এই আলোচনায় তিনজন প্যানেল স্পিকারের সকলেই বলেন, বর্তমান বিশ্ববাস্তবতায় সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে নীতিনৈতিকতা এবং নির্ভরযোগ্যতা আরো বেশী চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। এক্ষেত্রে সাংবাদিকদের নিজের বিবেকবোধকে জাগ্রত রাখা এখন জরুরী।

লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাব সেক্রেটারী মুহাম্মদ জুবায়েরের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন ক্লাব প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ এমদাদুল হক চৌধুরী। নির্ধারিত আলোচক হিসেবে বিষয়ভিত্তিক বক্তব্য উপস্থাপন করেন প্রেস ক্লাবেরই তিন সিনিয়র সদস্য বিবিসি-র সাবেক সাংবাদিক, দৈনিক এশিয়ান এইজ-এর কলামিস্ট উদয় শঙ্কর দাশ, বিবিসি বাংলার প্রডিউসার মোয়াজ্জেম হোসেন ও চ্যানেল এস-এর সিনিয়র নিউজ প্রেজেন্টার ড. জাকি রেজওয়ানা আনোয়ার। উদয় শঙ্কর দাশ বলেন, সাংবাদিকতা নিয়ে আলোচনার জন্য এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বেছে নেওয়ায় প্রেস ক্লাবকে ধন্যবাদ দিতে হয়। সাংবাদিকতায় মান এবং নীতিবোধ একেকটি মৌলিক বিষয়, যা আমাদের পেশাগত জীবনে বেশ প্রভাব রাখে। সব সাংবাদিক সৎ হবেন বা সব সাংবাদিক যথার্থ তথ্য দেবেন, এমনটি নিশ্চিত করা যায়না। তবে সাংবাদিক তথ্য পরিবেশনের ক্ষেত্রে সততা এবং নির্ভরতার বেলায় কোনো দুর্বলতা রাখেননি সেটিই বিবেচ্য বিষয়।

বিশেষ করে সাংবাদিককে সূত্রের ক্ষেত্রে যতোটুকু সম্ভব স্বচ্ছ থাকতে হবে। তাদেরকে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ হতে হবে। কোনো রাজনৈতিক বা ব্যক্তিগত স্বার্থ থাকলে সেটি আগাম পরিস্কার করতে হবে। সাংবাদিকতায় নিজের আবেগের প্রকাশ থাকা কাম্য নয় এমনটি উল্লেখ করে উদয় শঙ্কর দাশ বলেন, প্রিন্সেস ডায়েনার মৃত্যুবিষয়ক বিবিসি রিপোর্টে তাঁর কিছু আবেগী কাব্যময় বাক্য সম্পাদক বাদ দিয়ে দেন। মোয়াজ্জেম হোসেন বিবিসি সাংবাদিকতার ক্ষেত্রেও তথ্যবিভ্রাট কীভাবে সারা বিশ্বে হৈ চৈ ফেলে দেয় তার কিছু উদাহরণ তুলে ধরেন। তিনি বলেন, শুধু সততা আর নৈতিকতা নয়, সাংবাদিকতায় তথ্যের যথার্থ পরিবেশন প্রধান বিষয়। অত্যন্ত যতœ নিয়ে, দায়িত্ব নিয়েই সাংবাদিকতা করতে হবে। ড. জাকি রেজওয়ানা আনোয়ার সাংবাদিকতার পাঁচটি মৌলিক বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন। ট্রুথ এন্ড এক্যুরেসি, ইন্ডিপেনডেন্স, ফেয়ারনেস এন্ড ইমপারশিয়ালিটি এবং একাউন্টেবিলিটি ইত্যাদির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সাংবাদিকরা মালিক, সরকার বা প্রভাবশালীদের কথা বলে নিজেদের বিবেকের দায়িত্ব এড়াতে পারেন না।

সবারই মনে রাখা দরকার ঝুঁকি ও দায়িত্ববোধের কথা মনে রেখেই সাংবাদিকতায় আসতে হবে। আর নিজেদের কাছেই জবাবদিহি হতে হবে। মঙ্গলবারের অনুষ্ঠানে প্রেস ক্লাবের সাবেক দুই সভাপতি সৈয়দ নাহাস পাশা ও মোহাম্মদ বেলাল আহমদ এবং সাবেক দুই সেক্রেটারী যথাক্রমে নজরুল ইসলাম বাসন ও আবদুস সাত্তারও উপস্থিত ছিলেন। ধন্যবাদ বক্তব্য রাখেন ক্লাবের ভাইস প্রেসিডেন্ট ব্যারিস্টার তারেক চৌধুরী। প্রশ্ন ও মন্তব্য পর্বে আরো অংশ নেন, দৈনিক এশিয়ান এইজের নির্বাহী সম্পাদক সৈয়দ বদরুল হাসান, টিভি প্রেজেন্টার বুলবুল হাসান, সাংবাদিক শামসুল আলম লিটন, কলামিস্ট ইমরান চৌধুরী ও সাংবাদিক মারুফ আহমদ।